শনিবার, ৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ
অপরাধ, আইন ও বিচার, ঢাকা বিভাগ, প্রচ্ছদ শ্রীপুরে মেধাবী শিক্ষার্থী শিবলুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন!

শ্রীপুরে মেধাবী শিক্ষার্থী শিবলুর সুষ্ঠু তদন্ত ও বিচারের দাবিতে মানববন্ধন!


পোস্ট করেছেন: নিউজ ডেস্ক | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২২, ২০২০ , ১২:৩৪ পূর্বাহ্ণ | বিভাগ: অপরাধ,আইন ও বিচার,ঢাকা বিভাগ,প্রচ্ছদ


মোঃনাজমুল হোসেন শ্রীপুর উপজেলা প্রতিনিধিঃ
শারীরিক ভাবে অক্ষম স্বামী  ও দুই জন সন্তান নিয়ে একটি মাটির ঘরে বসবাস করতো কুলসুম বেগম।
চার সন্তানের মধ্যে দুইজনকে বিয়ে দেওয়ার পর তারা অন্যত্র থাকছে।
হতদরিদ্র পরিবারে জন্ম নেয়া শিবলু (১৪) ৮ম শ্রেণিতে লেখাপড়ার পাশাপাশি মানুষের বাড়িতে কাজ করতো, কাজ করে নিজের পড়াশোনা সহ বাড়ির বিভিন্ন চাহিদা মেটাতো সে।
তার ছোট ভাই শাহাদাত (৬)।
করোনা মহামারির কারণে বিদ্যালয় বন্ধ থাকায় কাজ নিয়েছিলো পাশের বাড়ীতে।
সেই বাড়ীতেই গত ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২০ সন্ধ্যায় তার লাশ উদ্ধার করে শ্রীপুর থানার এসআই মহসিন।
এ ঘটনার পরপরই বাড়ীর লোকজন গা ঢাকা দেয়।পুলিশ লাশ ময়নাতদন্তের জন্য গাজীপুর শহীদ তাজউদ্দিন আহমদ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করন।
এ ঘটনাটি এলাকায় বিদ্যুৎপষ্ট হিসেবে প্রচার হয়। এমনকি থানায় অপমৃত্যু হিসেবে পুলিশ একটি মামলা রেকর্ড করে। যদিও প্রথম থেকেই কিশোরের পরিবারের অভিযোগ ছিল এটি একটি পরিকল্পিত হত্যাকান্ড।
ঘটনার পরই কয়েকজনকে অভিযুুক্ত করে কিশোরের পরিবার শ্রীপুর থানায় অভিযোগ দিলেও পুলিশ তা মামলা হিসেব রুজু করেনি। এরপর গাজীপুর আদালতে মামলা নম্বর ১০৫৮ দায়ের করেন কুলসুম বেগম।
কিশোর সাদিকুল ইসলাম শিবলু গাজীপুর জেলার শ্রীপুর উপজেলার টেংরা গ্রামের রমজান আলীর সন্তান ও টেংরা নসর উদ্দিন উচ্চ বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী।
ওই শিক্ষার্থী মৃত্যুর ঘটনায় অভিযুক্তরা হলেন, টেংরা গ্রামের মৃত ছফির উদ্দিনের সন্তান রওশন আরা (৪২), আব্দুর রশিদের সন্তান সোহেল মিয়া(৩২), রহিম মিয়ার স্ত্রী সাবেক ওয়ার্ড সদস্য রুনা(৪৫) ও সাহাব উদ্দিনের সন্তান নাসির উদ্দিন(৩৫)।
এ ঘটনা সুষ্ঠু তদন্তের প্রয়োজনে কবর থেকে লাশ উঠিয়ে পূনরায় তদন্ত ও বিচারের দাবি জানিয়ে বৃহস্পতিবার [১৯ নভেম্বর ২০২০] দুপুরে একটি মানববন্ধন করেন ভুক্তভোগী পরিবারসহ এলাকাবাসী।
ওই মানববন্ধনে শিবলুর মা কুলসুম বেগম জানান, আমার সংসারে উপার্জন করার মতো শিবলু ছাড়া আর কেউ নেই। আমার সোনার টুকরা ছেলে রওশন আরার বাড়িতে কাজ করতো। আমার ছেলেকে তারা মারার দুইদিন আগেও আমাকে বলছিল, রওশন আরা নেশা করে, সিগারেট খায়৷ আমি আর ওই বাড়িতে কাজ করবো না। তার লাশ নিয়ে যাওয়ার সময়ও তার শরীরে মারধরের দাগ ছিল। তখন থানায় মামলা করতে চাইছিলাম, পুলিশ মামলা নেয়নি। ময়নাতদন্তের রিপোর্টে লেখা হয়েছে বৈদ্যুতিক শট খেয়ে মারা গেছে। তাদের টাকা আছে, তারা ওই সময় এক লাখ টাকা দিয়ে ঘটনা মীমাংসা করতে চেয়েছে। আমাদের টাকা চাই না, আমরা আমাদের ছেলের হত্যার  বিচার চাই।
এ ব্যাপারে প্রধান অভিযুক্ত রওশন আরা জানিয়েছেন, শিবলু আমাদের বাড়িতে মাঝেমধ্যে কাজ করতো। ওইদিন সে বৃষ্টিতে ভিজে সে আমাদের বাড়িতে আসছিল, পরে সন্ধ্যার সময় কারেন্ট শর্ক খেয়ে মৃত্যুর ঘটনা শুনি। কিভাবে ? বৈদ্যুতিক কোন ত্রুটির কারণে এ ঘটনা ঘটেছে ? এসব প্রশ্নের কোনও উত্তর দিতে পারেননি তিনি।
এ ব্যাপারে শ্রীপুর থানার এসআই মহসিন জানান, পোস্টমর্টেম রিপোর্টে যা আছে তাই, এর বাইরে আমার কিছু বলার নেই, আমি একটু ব্যস্ত আছি, পরে বিস্তারিত কথা বলি।
এ ঘটনায় শ্রীপুর থানায় একটি অপমৃত্যু মামলা হয়েছিল, কিন্তু ভুক্তভোগীর পরিবার ওই মামলা প্রসঙ্গে কিছুই জানেন না। তারা বিচার না পেয়ে আদালতে মামলা করেছেন।

Comments

comments

Close