শনিবার, ৮ মে, ২০২১ খ্রিস্টাব্দ
সর্বশেষ সংবাদ

দ্বীপের অক্সফোর্ড


পোস্ট করেছেন: বার্তা বিভাগ | প্রকাশিত হয়েছে: নভেম্বর ২৪, ২০২০ , ৮:০৮ অপরাহ্ণ | বিভাগ: চটগ্রাম বিভাগ,ফিচার,বিশেষ প্রতিবেদন


এস এম জাকিরুল আলম মেহেদী

জন্মেছি মাগো তোমার কোলে ধন্য আমি ধন্য,
দিয়েছ তুমি দু’হাত ভরে’আমি অধম শুন্যে।
হাজারো সন্তান কৃর্তি গড়ে মাতিয়েছেন এ দ্বীপ
জন্ম তাদের ধন্য হলো,গড়লো স্বদেশ সন্দ্বীপ।

আমি গর্বিত দ্বীপের অক্সফোর্ডের ঐতিহ্যময় ক্যাম্পাস নিয়ে লিখছি। চোখ জুড়ানু মন ভরানু সবুজ কার্পেট যেন মাঠের মাঝে ফুটিয়ে তুলেছে নতুনত্বের বারতা।
শহীদ মিনার দাড়িয়ে আছে সবুজ ঘাসের সাথে মিতালী করে। শিক্ষক মিলনায়তন ও ছাত্রী মিলনায়তন, লাইব্রেরী বিল্ডিং ক্যাম্পাসের দক্ষিণে কালের স্বাক্ষী।
ওদুদ হল সহ ক্যাম্পাসের তিন তলা বিল্ডিং শ্রেণী কক্ষ হিসেবে হাজারো অগ্রজ,অনুজদের স্মৃতি বহন করেছিল। পশ্চিমের কলেজ দিঘী ও সান বাঁধানো ঘাট সমীরণ বয়ে দিত মনে।

আহা!! কোথায় হারিয়ে গেল আমার প্রাণের ক্যাম্পাস। মেঘনা করেছে সর্বনাস।
আমরা থার্ড জেনারেশন বড়ই অকৃতজ্ঞ, ১৯০০ সাল থেকে ১৯৬৭ সাল উচ্চ শিক্ষা বিস্তারে বঞ্চিত সন্দ্বীপ। মাধ্যমিক শিক্ষার স্তর শেষ করে অনেক স্বপ্নের ইতি ঘটতো কলেজ সৃষ্টির পুর্বে।প্রথম জেনারেশনের দাতা, তার অকৃত্রিম ভালবাসায় ৪৮০ শতক জমি ও নগদ পঞ্চাশ হাজার টাকার অনুদান দিয়ে দ্বীপের চার লক্ষ লোককে কৃতজ্ঞতায় আবদ্ধ করলেন জমিদার হাজী আবদুল বাতেন সওদাগর। দ্বীপ বাসী তার প্রতি ভালবাসা প্রকাশ করে, তারই নামে নামকরণ হাজী আবদুল বাতেন কলেজ
সন্দ্বীপে একটা কলেজ দরকার অনুভব করে, দ্বীপের কয়েকজন কৃতি সন্তান মানুষের দ্বারস্থ হয়েছেন বারবার। তাদের অক্লান্ত পরিশ্রম ও মেধায় পরিপূর্ণ দ্বীপের একমাত্র সরকারি কলেজ। যাহা আমার কাছে দ্বীপের অক্সফোর্ড। যাদের কারনে আমরা উচ্চ শিক্ষিত, সে সব কৃতি সন্তান গুলো উপেক্ষিত। এখন সেমিনার করে বলা হচ্ছেনা প্রতিষ্ঠাতা হাজী আবদুল বাতেন সওদাগরের কথা। বলা হচ্ছেনা কলেজ প্রতিষ্ঠায় ভূমিকা রাখা মরহুম জামসেদ উকিল সাহেব ও মরহুম মাকসুদুর রহমান মুক্তারের কথা। নব প্রজন্ম কে জানাতে হবে সন্দ্বীপের উচ্চ শিক্ষা বিস্তারের বাতিঘর গুলোর নাম।
সরকারি হাজী আবদুল বাতেন কলেজ প্রতিষ্ঠা লাভ করে ১৯৬৮ সালে। ১৯৭২ সালে ডিগ্রী কলেজের স্বীকৃতি দেয় সরকার। ১৯৭৯ সালে প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান উত্তর চট্টগ্রামের মধ্যে একমাত্র সন্দ্বীপের হাজী আবদুল বাতেন কলেজ কে জাতীয় করণ করেন।
২০১৩ সালে বর্তমান প্রধানমন্ত্রী সরকারি হাজী আবদুল বাতেন কলেজ কে বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে রূপান্তর করেন। (অনার্স কলেজ)
স্বরণ করছি যাদের ছাত্র হয়ে নিজে গর্বিত…..
রফিকুল হক স্যার, রফিকুল ইসলাম স্যার,জহির উদ্দিন বাবর স্যার, আবুল বাশার স্যার, নাজমুল হুদা স্যার, রাজেন্দ্র স্যার, নুরুল আকতার স্যার, সামছুল আলম স্যার, ইউনুস স্যার,মানিক স্যার,শাহ আলম স্যার,সাদেক স্যার, ইউছুপ জালাল স্যার,সহ অজানা অনেক স্যার।

পুরনো ক্যাম্পাসের ধুলাবালি, আমার চোখের জ্যুতি,
দিবানিশি হ্নদয়ে ধারণ করে হাতড়িয়ে স্বরি।
জেগে থাক প্রাণের ক্যাম্পাস, স্বরি আজীবন,
ধন্য আমি, ছাত্র আমি, স্বরিব মরন।

————————————
এস এম জাকিরুল আলম মেহেদী
পরিচালক.. হালিশহর মহিলা কলেজ।

Comments

comments

Close